নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি প্রভাবশালী চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম আর্থিক চাপে পড়েছে।
কৃত্রিম সংকট ও দ্বিগুণ দাম
খুচরা বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০–৮০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে ভোক্তাদের অভিযোগ। ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কম দেখিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের ওপর বাড়তি দামে পণ্য নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে চেইনজুড়ে তৈরি হচ্ছে অস্বচ্ছ লেনদেন ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি।
অভিযোগের তীর তদারকির ঘাটতিতে
এলপিজির মূল্য নির্ধারণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় সেই মূল্য বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজারে দৃশ্যমান তদারকি ও তাৎক্ষণিক শাস্তির নজির না থাকায় সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
ভোক্তাদের দুর্ভোগ
নগর ও মফস্বলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো রান্নার একমাত্র জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। বাড়তি দামের চাপ সামাল দিতে অনেক পরিবারকে ব্যয় কমাতে হচ্ছে অন্য খাতে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অনিরাপদ বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার।
ব্যবসায়ীদের যুক্তি
কিছু ডিলার পরিবহন খরচ, ডলার দর ও আমদানি ব্যয়ের অজুহাত তুলে বাড়তি দামের সাফাই গাইছেন। তবে ভোক্তাদের প্রশ্ন—সরকারি নির্ধারিত দাম কার্যকর থাকলে অতিরিক্ত আদায়ের সুযোগ কোথায়?
করণীয় কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে—
নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা
ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে ডিজিটাল মূল্যতালিকা বাধ্যতামূলক করা
অতিরিক্ত দাম আদায়ে তাৎক্ষণিক জরিমানা ও লাইসেন্স স্থগিত
সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত
দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই জ্বালানি পণ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। সিন্ডিকেট ভাঙতে শক্ত হাতে অভিযান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে সর্বস্তরে।






















