০৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেরপুরের দশকাহনিয়ায়“চেষ্টা”র মানবিক উদ্যোগ।

মারুফ হোসেন :

স্বাধীনতার মাসে দুই গৃহহীন নারী পেলেন নতুন বাড়ি, অসহায়দের পাশে বহুমুখী সহায়তা।
স্বাধীনতার মাস মার্চকে সামনে রেখে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “চেষ্টা”। ২ মার্চ ২০২৬, সোমবার শেরপুর জেলার দশকাহনিয়া গ্রামে আয়োজিত এক সেবামূলক কর্মসূচিতে দুই অসহায় ও গৃহহীন মহিলার হাতে নতুন বাড়ির চাবি এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এক নারীকে স্বাবলম্বী করতে সবজি ও কাঁচাবাজারসহ একটি সবজির ভ্যান প্রদান এবং এক প্রতিবন্ধী শিশুকে হুইলচেয়ার উপহার দেওয়া হয়।
দু’জন অসহায় নারীর জন্য নতুন আশ্রয়
কর্মসূচির আওতায় “চেষ্টা বাড়ি নং–৫” প্রদান করা হয় ময়না বেগমকে। তাঁর স্বামী মৃত জুলহাস উদ্দিন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। গ্রামের দশকাহনিয়া, ডাকঘর চরশেরপুর, জেলা শেরপুর—এই ঠিকানায় নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
অন্যদিকে “চেষ্টা বাড়ি নং–৬” প্রদান করা হয় মোছা. মিনা বেগমকে, স্বামী মো. শাহ আলম মিয়া। একই গ্রামের বাসিন্দা মিনা বেগমও দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চিত আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। নতুন ঘর পেয়ে তিনি সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার জন্য দোয়া কামনা করেন।
প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী, যাতে উপকারভোগীরা নতুন জীবনের সূচনা করতে পারেন সম্মানের সঙ্গে।
স্বাবলম্বিতার পথে আরেকটি উদ্যোগ
শুধু আশ্রয় নয়, জীবিকা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে “চেষ্টা”। এদিন এক অসহায় নারীকে সবজি, কাঁচাবাজার ও একটি সবজির ভ্যান প্রদান করা হয়, যাতে তিনি নিয়মিত ব্যবসা করে আয় করতে পারেন এবং পরিবারের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে পারেন।
এছাড়া এক প্রতিবন্ধী শিশুকে একটি হুইলচেয়ার উপহার দেওয়া হয়, যা তার চলাচল ও শিক্ষাজীবনে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।
গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি প্রানবন্ত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ঢাকা থেকে আগত “চেষ্টা”র কেন্দ্রীয় সদস্যবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট লায়লা নাজনীন হারুন, সেক্রেটারি গুলসান নাসরীন চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক সাকেরা খান, প্রাক্তন সেক্রেটারি দিলরুবা বেগম, সদস্য সাহানাজ মান্নান, আইভী মামুন এবং লাকী ইয়াসমিন ।
তাঁরা প্রত্যেকে মানবসেবায় সংগঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গণমাধ্যমের সরেজমিন কভারেজ
এ সময় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজন সরেজমিনে কভার করেন। তাঁরা উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংগঠনের মানবিক উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ
পুরো কর্মসূচি ছিল সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল এক অনন্য উদ্দীপনা ও মানবসেবার প্রতি গভীর অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ সময় ধরে পথচলার স্মারক এই আয়োজন ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করার দৃঢ় প্রত্যয়ে শেষ হয়।
মানবিকতার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্বাধীনতার মাসে এমন মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেরপুরের দশকাহনিয়ায়“চেষ্টা”র মানবিক উদ্যোগ।

শেরপুরের দশকাহনিয়ায়“চেষ্টা”র মানবিক উদ্যোগ।

সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মারুফ হোসেন :

স্বাধীনতার মাসে দুই গৃহহীন নারী পেলেন নতুন বাড়ি, অসহায়দের পাশে বহুমুখী সহায়তা।
স্বাধীনতার মাস মার্চকে সামনে রেখে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “চেষ্টা”। ২ মার্চ ২০২৬, সোমবার শেরপুর জেলার দশকাহনিয়া গ্রামে আয়োজিত এক সেবামূলক কর্মসূচিতে দুই অসহায় ও গৃহহীন মহিলার হাতে নতুন বাড়ির চাবি এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এক নারীকে স্বাবলম্বী করতে সবজি ও কাঁচাবাজারসহ একটি সবজির ভ্যান প্রদান এবং এক প্রতিবন্ধী শিশুকে হুইলচেয়ার উপহার দেওয়া হয়।
দু’জন অসহায় নারীর জন্য নতুন আশ্রয়
কর্মসূচির আওতায় “চেষ্টা বাড়ি নং–৫” প্রদান করা হয় ময়না বেগমকে। তাঁর স্বামী মৃত জুলহাস উদ্দিন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। গ্রামের দশকাহনিয়া, ডাকঘর চরশেরপুর, জেলা শেরপুর—এই ঠিকানায় নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
অন্যদিকে “চেষ্টা বাড়ি নং–৬” প্রদান করা হয় মোছা. মিনা বেগমকে, স্বামী মো. শাহ আলম মিয়া। একই গ্রামের বাসিন্দা মিনা বেগমও দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চিত আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। নতুন ঘর পেয়ে তিনি সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার জন্য দোয়া কামনা করেন।
প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী, যাতে উপকারভোগীরা নতুন জীবনের সূচনা করতে পারেন সম্মানের সঙ্গে।
স্বাবলম্বিতার পথে আরেকটি উদ্যোগ
শুধু আশ্রয় নয়, জীবিকা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে “চেষ্টা”। এদিন এক অসহায় নারীকে সবজি, কাঁচাবাজার ও একটি সবজির ভ্যান প্রদান করা হয়, যাতে তিনি নিয়মিত ব্যবসা করে আয় করতে পারেন এবং পরিবারের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে পারেন।
এছাড়া এক প্রতিবন্ধী শিশুকে একটি হুইলচেয়ার উপহার দেওয়া হয়, যা তার চলাচল ও শিক্ষাজীবনে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।
গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি প্রানবন্ত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ঢাকা থেকে আগত “চেষ্টা”র কেন্দ্রীয় সদস্যবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট লায়লা নাজনীন হারুন, সেক্রেটারি গুলসান নাসরীন চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক সাকেরা খান, প্রাক্তন সেক্রেটারি দিলরুবা বেগম, সদস্য সাহানাজ মান্নান, আইভী মামুন এবং লাকী ইয়াসমিন ।
তাঁরা প্রত্যেকে মানবসেবায় সংগঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গণমাধ্যমের সরেজমিন কভারেজ
এ সময় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজন সরেজমিনে কভার করেন। তাঁরা উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংগঠনের মানবিক উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ
পুরো কর্মসূচি ছিল সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল এক অনন্য উদ্দীপনা ও মানবসেবার প্রতি গভীর অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ সময় ধরে পথচলার স্মারক এই আয়োজন ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করার দৃঢ় প্রত্যয়ে শেষ হয়।
মানবিকতার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্বাধীনতার মাসে এমন মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।