০২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মায়ের ডাকের’ উদ্যোগে গুম ও শহীদ পরিবারের পাশে মহানগর উত্তর বিএনপি।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ঢাকা মহানগর উত্তরের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠন।

মিরপুরে আজ ১৭ মার্চ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে মোট ৫৫টি পরিবারের হাতে এই ভালোবাসার উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সানজিদা ইসলাম তুলি।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের মানবিক দায়িত্ব। ঢাকা মহানগর উত্তরের চারজন জনপ্রতিনিধি—শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, এস এম জাহাঙ্গীর, সানজিদা ইসলাম তুলি এবং আমি নিজে—ব্যক্তিগতভাবে সবসময় আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। তবে এবার আমরা সম্মিলিতভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছি যাতে আপনাদের সাথে কিছুটা সময় কাটানো যায় এবং আমাদের পক্ষ থেকে সামান্য ভালোবাসার উপহার পৌঁছে দেওয়া যায়।

প্রতিমন্ত্রী শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাদের দুঃখ-দুর্দশার বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিগত ১৭ বছরের গুম, খুন এবং নির্যাতনের শিকার পরিবারসহ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার ইতোমধ্যে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু হয়েছে। ইমাম-খতিবদের ভাতা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো এরই অংশ।

তিনি আরও জানান, শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং সন্তানদের চাকরির ব্যবস্থা করার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি হলে গুম ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অন্যান্য মন্ত্রণালয়েও চাকরির ক্ষেত্রে এই পরিবারগুলোর জন্য জোরালো সুপারিশ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আমিনুল হক বলেন, “আপনারা নিজেদের কখনো একা ভাববেন না। আমরা আপনাদের পরিবারের সদস্য হয়েই পাশে থাকতে চাই। আমাদের নেত্রী এবং বর্তমান সরকার আপনাদের মঙ্গলের জন্য কাজ করছে এবং খুব দ্রুতই আপনাদের জন্য নেওয়া স্থায়ী কর্মপরিকল্পনাগুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর যেকোনো প্রয়োজনে সদা প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

জনপ্রিয় খবর

মায়ের ডাকের’ উদ্যোগে গুম ও শহীদ পরিবারের পাশে মহানগর উত্তর বিএনপি।

মায়ের ডাকের’ উদ্যোগে গুম ও শহীদ পরিবারের পাশে মহানগর উত্তর বিএনপি।

সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ঢাকা মহানগর উত্তরের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠন।

মিরপুরে আজ ১৭ মার্চ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে মোট ৫৫টি পরিবারের হাতে এই ভালোবাসার উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সানজিদা ইসলাম তুলি।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের মানবিক দায়িত্ব। ঢাকা মহানগর উত্তরের চারজন জনপ্রতিনিধি—শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, এস এম জাহাঙ্গীর, সানজিদা ইসলাম তুলি এবং আমি নিজে—ব্যক্তিগতভাবে সবসময় আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। তবে এবার আমরা সম্মিলিতভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছি যাতে আপনাদের সাথে কিছুটা সময় কাটানো যায় এবং আমাদের পক্ষ থেকে সামান্য ভালোবাসার উপহার পৌঁছে দেওয়া যায়।

প্রতিমন্ত্রী শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাদের দুঃখ-দুর্দশার বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিগত ১৭ বছরের গুম, খুন এবং নির্যাতনের শিকার পরিবারসহ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার ইতোমধ্যে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু হয়েছে। ইমাম-খতিবদের ভাতা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো এরই অংশ।

তিনি আরও জানান, শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং সন্তানদের চাকরির ব্যবস্থা করার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি হলে গুম ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অন্যান্য মন্ত্রণালয়েও চাকরির ক্ষেত্রে এই পরিবারগুলোর জন্য জোরালো সুপারিশ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আমিনুল হক বলেন, “আপনারা নিজেদের কখনো একা ভাববেন না। আমরা আপনাদের পরিবারের সদস্য হয়েই পাশে থাকতে চাই। আমাদের নেত্রী এবং বর্তমান সরকার আপনাদের মঙ্গলের জন্য কাজ করছে এবং খুব দ্রুতই আপনাদের জন্য নেওয়া স্থায়ী কর্মপরিকল্পনাগুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর যেকোনো প্রয়োজনে সদা প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।